মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
মহান বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিতে বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে। তবে শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।
এর আগে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ তিন দিন সরকারি ছুটিতে বন্দর ও কাস্টমস হাউজ বন্ধ ছিল। তার আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৭ দিন বন্ধ ছিল এ পথে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, শনিবার থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার থেকে বন্দর ও কাস্টমস হাউজে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গোটা বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ছুটির কারণে সীমান্তের দুইপাশে সৃষ্টি হয়েছিল পণ্যজট। শনিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও রবিবার বন্দর থেকে পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় কমতে শুরু করছে পণ্যজট। বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য দুই হাজার শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে। এছাড়া, ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে ৩৩৮ ট্রাক বিভিন্ন পণ্য ও ৯৪টি মোটরযানের চ্যাচিস আমদানি হয়েছে। অনুরুপ বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ৭৬ ট্রাক বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বন্ধের সময়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের ন্যায় স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, ২৬ মার্চ ও ২৭ মার্চ ছুটিতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এ সময় কোনো পণ্য আমদানি হয়নি ভারত থেকে। শনিবার দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছুটিতে গিয়েছিলেন সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছে। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস নিতে পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

