সহিদুল করিম বিপ্লব, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় লাখো শ্রমিককে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, পাশাপাশি তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রূপগঞ্জে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। যাত্রামুড়া, বরপা, রূপসী, আউখাবো, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় দলবেঁধে শ্রমিকদের মহাসড়ক পারাপার হতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় শ্রমিকরা প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের মাঝেই সড়ক পার হন। এতে নিয়মিত দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত পারাপারের কারণে মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন যাত্রীরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেন, “আমাদের জীবনের মূল্য নেই বলেই হয়তো কেউ গুরুত্ব দেয় না। প্রতিটি কারখানার সামনে একটি করে ওভার ব্রিজ থাকলে আমরা নিরাপদে চলাচল করতে পারতাম।

ট্রাকচালক আব্দুর রহমান জানান, “শ্রমিকরা হঠাৎ করে রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এতে মুহূর্তেই যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা দরকার। এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং যানজটও কমবে।
আল রাফি হাসপাতাল লিমিটেডের পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, যানজটের কারণে অনেক সময় রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি জেনেছি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি আরও বাড়বে।


