সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শেগুফতা রাব্বানী। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য বেগম খালেদা রব্বানীর জ্যেষ্ঠ কন্যা হওয়ায় তার এই আগ্রহ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মনোনয়ন পেলে জেলার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন শেগুফতা রাব্বানী। তিনি জানিয়েছেন,নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৌলভীবাজার এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা,আকবরপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলা,একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি সার্ভে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নেও তিনি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা এবং শহর রক্ষাবাঁধকে টেকসই করার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে,এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন,শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং চা-বাগান এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শেগুফতা রাব্বানী জানান,সুযোগ পেলে তিনি তার মায়ের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে চান এবং মৌলভীবাজারকে একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় জেলায় রূপান্তর করতে কাজ করবেন।
জানা গেছে,পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৯ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংরেজির পাশাপাশি রাশিয়ান,উর্দু ও হিন্দি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বলছেন,দুঃসময়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মতে,তরুণ,শিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তিনি একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী।
বর্তমানে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছেন। তার সমর্থকদের বিশ্বাস,দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা তাকে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখবে।
এ বিষয়ে শেগুফতা রাব্বানী বলেন,“দলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও আস্থা আমার জন্য বড় প্রেরণা। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়,আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করব।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য জানিয়েছেন,দলের পক্ষ থেকে এখনও কাউকে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিগত দিনে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন,এমন নেত্রীদের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত নন,কিন্তু বিভিন্ন ফোরামে দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন-এমন নেত্রীদেরও গুডবুকে রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়ার সম্ভাবনা অনুযায়ী,তাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হবে,যেখানে মহিলা দল ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

