শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা):
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেছেন, অতীতে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, আর এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা চত্বরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবং দুপুরে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাপ্পী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাজের নামে কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নেওয়ার অপসংস্কৃতি চালু ছিল। বরাদ্দ পেতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতো, এমনকি মসজিদ-মন্দিরও রক্ষা পায়নি। তৎকালীন চেয়ারম্যান ও অসাধু কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে জেলা পরিষদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, এখন থেকে বরাদ্দ পেতে কাউকে এক কাপ চা খাওয়াতেও হবে না। কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “ঘের দখল, চাঁদাবাজি বা কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন—আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। নির্বাচিত না হলেও দল আমাকে জেলার ৯ উপজেলার দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করেছে। এই দায়িত্ব আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এই দায়িত্বকে পবিত্র আমানত হিসেবে দেখি। জনগণের জন্য কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়ে খুলনা জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবো।”
ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা-কয়রার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করবেন, যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করা হবে। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ এলাকা গড়ে তুলতে চাই।”
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম আশরাফুল ইসলাম নান্নু, অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার, শহিদুল ইসলাম, উৎপল কুমার বাইন, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জিএম মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা এ আর খান লিটন, বিএনপি নেতা তৌহিদুজ্জামান মুকুল, আবুল হোসেন, তুষার কান্তি মন্ডল, কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, আবু তালেব, সেলিম রেজা লাকি, মোস্তফা মোড়ল, এস এম মোহর আলী, শেখ রুহুল কুদ্দুস, মিজান জোয়ার্দার, মফিজুল ইসলাম টাকু, আবুল বাশার বাচ্চু, আনোয়ারুল কাদীর, আসাদুজ্জামান ময়না, ইব্রাহিম গাজী, আবু মুছা, বাবর আলী গোলদার, লক্ষী রাণী গোলদার, বাসন্তী মন্ডল, অ্যাডভোকেট রাশনা শারমিন আঁখি, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন সুমন, মেছের আলী সানা, ইমরান সরদার, প্রণব কান্তি মন্ডল, নাজির সরদার, শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক শহিদুল ইসলাম, আবু হুরায়রা বাদশা, মোল্লা ইউনুস আলী, নাজমুল হুদা মিন্টু, জিএম রুস্তম, আনারুল ইসলাম, ফয়সাল রাশেদ সনি, সরজিৎ ঘোষ দেবেন, ইলিয়াস হোসেন, জিএম শুকুরুজ্জামান, আব্দুস সামাদ, অমরেশ কুমার মন্ডল, সাজ্জাদ আলী সরদার, আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, মিহির বরণ মন্ডল, সুজিত কুমার মন্ডল, পীযুষ কান্তি মন্ডল, আব্দুল্লাহ সরদার, যজ্ঞেশ্বর সানা কার্ত্তিক, বিএম আকিজ উদ্দিন, বাবুরাম মন্ডল, সন্তোষ কুমার সরদার, কিশোর কুমার মন্ডল, আরিফুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ সরদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন মনিরুল হাসান বাপ্পী।

