নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঞ্জুরা আক্তার নামের এক নারী শুক্রবার রাতে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ উপজেলার পদারকোণা গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে মঞ্জু মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী শান্তু মিয়ার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পর মঞ্জু মিয়া মারা যান। ওইদিন রাতেই নিহতের ছেলে সালেক মিয়া বাদী হয়ে শান্তু মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মদন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফায় প্রতিপক্ষের লোকজন অভিযুক্তদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় মঞ্জুরা আক্তার বাদী হয়ে এখলাছ মিয়া ও রানা মিয়াসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঞ্জুরা আক্তার দাবি করেন, সীমানা নিয়ে তর্ক হলেও কোনো মারামারি হয়নি। তার অভিযোগ, তর্কের সময় মঞ্জু মিয়া অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এই মৃত্যুকে পুঁজি করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
অপরদিকে, নিহত মঞ্জু মিয়ার ছেলে সালেক মিয়া গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “পিতার মৃত্যুর শোকে আমার পরিবার ভেঙে পড়েছে। আসামিদের বাড়িঘর কারা ভাঙচুর করেছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

