টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় গাইবান্ধার নিজপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আহাজারি। একই পরিবারের সদস্যসহ একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৭ মার্চ) সকালে নিহতদের জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে নিহত রাজমিস্ত্রি মো. হামিদুজ্জামান বারবার ভেঙে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি অসংলগ্ন কথাও বলেন, যা আশপাশের মানুষের হৃদয় ভারী করে তোলে। প্রতিবেশীদের কাঁধে ভর দিয়ে তিনি জানাজায় উপস্থিত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাস বিকল হয়ে রেললাইনের পাশে অবস্থান করার সময় ঢাকাগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পোশাক শ্রমিক নার্গিস বেগম, তার ছেলে নীরব মিয়া, এবং আরও কয়েকজন আত্মীয় ও প্রতিবেশী।
নিহতদের মরদেহ শনিবার সকালে নিজপাড়া গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেই পরিবারের নতুন সদস্যদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে কয়েকজন নারী সদস্য ঢাকায় কাজে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় ভয়াবহ শোকগাঁথায়।
স্থানীয়রা জানান, একসঙ্গে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। স্বজনরা প্রিয়জনদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং অনেকেই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

