সালমান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর রক্ষা বাঁধের আলমখালি ক্লোজার প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ নিয়ে এক রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকল্পের সাইনবোর্ডে বরাদ্দের পরিমাণ ৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সন্দেহের দানা বেঁধেছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আলমখালি ক্লোজারের সামনে টানানো সাইনবোর্ডে প্রকল্পের মোট বরাদ্দ উল্লেখ ছিল ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ১১৪ টাকা। তবে এর মাত্র একদিন পরেই একই সাইনবোর্ডে বরাদ্দের সেই অংক পরিবর্তন করে ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ১১৪ টাকা লিখে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যাখ্যা বা সংশোধনী ছাড়াই এভাবে একদিনের ব্যবধানে সাত লাখ টাকা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে স্থানীয় কৃষকরা সংসদ সদস্যের কাছে বাঁধের কাজ নিয়ে প্রশাসনের রহস্যজনক আচরণ ও অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।
এ সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আলমখালি ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। বাঁধের একদম গোড়া থেকে মাটি তুলে বাঁধে ফেলার কারণে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, গত ৫০ বছরেও বাঁধ নির্মাণে এমন সীমাহীন অনিয়ম তিনি দেখেননি। ইউএনও-এর দোহাই দিয়ে এখানে সব অনিয়ম জায়েজ করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংসদ সদস্য আরও নির্দেশ দেন যে, পানির প্রবল চাপ থেকে বাঁধ রক্ষা করতে হলে এখনই সেখানে মাটি ভর্তি জিওব্যাগ, চাটাই ও বাঁশের আড় বসাতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে কাজ শেষ করার জন্য তিনি সময় বেঁধে দেন।
এ সময় উপস্থিত তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক সংসদ সদস্যের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যে বাঁধের কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

