মীর ইমরান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর-এ পেঁয়াজ চাষে বাম্পার ফলনে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার সদর, কালকিনি, ডাসার ও শিবচর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কন্দ পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫০ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
জেলার মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজের সবুজ সমারোহ। কোথাও কন্দ পেঁয়াজ, আবার কোথাও পেঁয়াজ বীজের সাদা ফুলে ভরে উঠেছে ক্ষেত। ইতোমধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এবার লাভের আশা করছেন।
শুধু কন্দ পেঁয়াজ নয়, হালি পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। হালি পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ৬৭৩ হেক্টর হলেও আবাদ হয়েছে ৬৯৪ হেক্টর জমিতে। আর পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ৪২ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে।
কৃষকদের কাছে পেঁয়াজ বীজ এখন ‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত। বাজারে প্রতি কেজি বীজ ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বীজ উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে পরাগায়নে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন কৃত্রিমভাবে হাতে পরাগায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক।
এই আধুনিক পদ্ধতি ও লাভজনক বাজারের কারণে স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই পেঁয়াজ চাষ ও বীজ উৎপাদনকে সম্ভাবনাময় ব্যবসা হিসেবে দেখছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রহিমা খাতুন বলেন, “কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন।”
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ এবং ‘কালো সোনা’খ্যাত পেঁয়াজ বীজের উচ্চমূল্য স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা অব্যাহত থাকলে মাদারীপুর ভবিষ্যতে দেশের পেঁয়াজ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

