রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দম্পতি কাজী সাম্য সাইফ ও তার স্ত্রী জহুরা অন্তি। মাত্র এক বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয়ে গেল পদ্মার গভীরে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজবাড়ী শহরজুড়ে।
জানা যায়, কাজী সাম্য সাইফ রাজবাড়ী শহরের মহিলা কলেজের পেছনের এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী জহুরা অন্তি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিয়ে হয়।
ঈদের ছুটি কাটাতে তারা রাজবাড়ীতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী শহরের বাস মালিক সমিতি এলাকা থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের করুণ মৃত্যু হয়।
সাম্য ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছেলে ও পুত্রবধূকে একসঙ্গে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা কাজী মুকুল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাম্যদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় পাশাপাশি রাখা হয়েছে নবদম্পতির মরদেহ। মাঝখানে একটি পর্দা টাঙানো—ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী নারীর মরদেহের পাশে রয়েছেন কেবল নারীরাই। অন্য পাশে সাম্যের মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।
একজন আত্মীয় বিলাপ করে বলছিলেন, “আমার ভাই কত কথা বলত, এখন আর কথা বলে না…”। পুরো বাড়িজুড়ে শোকের মাতম, চারপাশে নেমে এসেছে স্তব্ধতা।
কাজী সাম্যের চাচা কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, “আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ছিল সাম্য। পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি বায়িং হাউসে চাকরি করত।
তার স্ত্রী অন্তি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে ইন্টার্নি করছিল। এক বছর আগে বিয়ে হলেও এ বছর ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তোলা হয়। এরপর তারা ঢাকার উত্তরায় থাকত। ঈদে বাড়িতে এসেছিল। কে জানত, এটাই তাদের শেষ যাওয়া হবে!”
তিনি আরও বলেন, “ছেলে আর পুত্রবধূকে হারিয়ে আমার ভাই কাজী মুকুল এখন একেবারে একা হয়ে গেছে। সাম্য খুব ভালো ছেলে ছিল।”একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, অসংখ্য স্বপ্ন আর সম্ভাবনা—সবকিছুই মুহূর্তেই থেমে গেল দৌলতদিয়ার সেই দুর্ঘটনায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, সাম্য ও অন্তি আর ফিরবে না কোনোদিন।

