দীপক কুমার দেব নাথ, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততার অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার নাসিরনগর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বিশেষ করে দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ জন যুবককে লিবিয়ায় পাচারের ঘটনায় একটি দালাল চক্র জড়িত ছিল। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এবং আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আরমান মিয়া ও ফরহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিএনপি নেতারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মূল কারণ ওই মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ। তারা বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবুল কাশেম এবং যুবলীগ নেতা রহিম মিয়া ওরফে রহিম তালুকদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ দ্বন্দ্বের জেরে ঈদের আগে ও পরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ ২৪ মার্চ সংঘটিত সহিংসতায় তিনজন নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপি নেতারা নিহতদের প্রতি শোক জানান এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপি, গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপি বা দলের কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।এ সময় উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

