সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার।
পুলিশ জানায়,গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী ফাহিম মিয়া তার টয়োটা করোলা প্রাইভেটকারটি মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকার রিয়াছত উল্লা সড়কে ভাড়া বাসার সামনে তালাবদ্ধ করে রেখে বাসায় যান। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান,গাড়িটি আর সেখানে নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান।
এরপর অজ্ঞাতপরিচয় প্রতারকরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করে। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ৬১ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও প্রতারকরা গাড়ি ফেরত দেয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা ও ডিবি কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করলে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহিউদ্দীন ও নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
ডিবির অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এসআই আহলাদ ইবনে জামিলসহ একটি দল শ্রীমঙ্গল থানার আশিদ্রোণ এলাকা থেকে ২৬ মার্চ রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে চক্রের তিন সদস্য-আব্দুল মুকিত কিবরিয়া (৩৮),নানু মিয়া (৩৪) ও শাহ আলম (৩৪)-কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা সংঘবদ্ধভাবে গাড়ি চুরি করে এবং শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোণ ইউনিয়নের টিকরিয়া গ্রামের রাধামাধব জিউর আখড়ার পাশে গাড়িটি লুকিয়ে রাখে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চোরাই প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে জব্দ করে।
এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর থানায় ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে পেনাল কোডের ৩৭৯/৪০৬/ ৪২০/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

