ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) হোয়াইট হাউস ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে দেশটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘কঠোর আঘাতের’ মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’র বরাতে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে যুদ্ধ কেবল তেহরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী বন্ধ হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে। ইরানের প্রধান ৫টি শর্ত হলো:
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের আইনি অধিকার স্বীকার করা। ইরান ও তার মিত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির গ্যারান্টিযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান। ভবিষ্যতে পুনরায় হামলা হবে না এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা। অঞ্চল থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া এবং সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন, তবে তেহরান সামরিক পরাজয় বুঝতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, ট্রাম্প হঠাৎ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে তাদের সামরিক অভিযান অপূর্ণ থেকে যাবে। এই আশঙ্কায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে সাজিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫ হাজার ইরানি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরান পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও সৌদি আরবের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এমনকি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত একটি বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

