আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা প্রদেশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে দাবি করে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া এবং সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীটিকে রক্ষার জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একে ‘প্রকাশ্য ইসরায়েলি আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসঙ্গে ইসরায়েলের এই নীতিমালা লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মিশর, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত এই নিন্দায় একাত্মতা প্রকাশ করে সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। কায়রোর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালন এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তাল, ঠিক তখনই সিরিয়ায় এই নতুন হামলাগুলো চালানো হলো। যদিও সিরিয়া এখন পর্যন্ত এই বৃহত্তর সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েনি।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সুইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার জন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ওই এলাকার আবাসিক অঞ্চলে আঘাত হানে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরায়েল গোলান মালভূমির অসামরিকীকৃত অঞ্চলে সেনা মোতায়েনসহ সিরিয়ায় নিয়মিত অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েল তাদের এই কর্মকাণ্ডকে দ্রুজদের সুরক্ষা হিসেবে দাবি করলেও সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জঘন্য আক্রমণ’ ও ‘মনগড়া অজুহাত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গতকাল জানান, তাঁর সরকার সিরিয়াকে সব ধরনের সংঘাত থেকে দূরে রাখতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।

