গাজী রাকায়েত— অভিনয়, নির্মাণ আর লেখনী, তিন মাধ্যমেই যার পদচারণা সফল। ঝুলিতে রয়েছে ২৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ মানসিক লড়াই, বিশ্বাসের ভাঙাগড়া এবং অবশেষে পরম সত্যের সন্ধান। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি শুনিয়েছেন তাঁর অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার সেই রোমাঞ্চকর গল্প।
গাজী রাকায়েত জানান, একসময় তিনি প্রচণ্ড ধর্মবিরাগী হয়ে উঠেছিলেন। বুয়েটে পড়াশোনা করা এই মেধাবী মানুষটি শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। প্রিয় ভাগ্নের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের না পাওয়ার বেদনা থেকে তাঁর মনে সৃষ্টিকর্তার ওপর ক্ষোভ জন্মায়। তাঁর প্রশ্ন ছিল— “কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো? কেন আমাকে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেতে হবে?” এই ক্ষোভ থেকেই তিনি দূরে সরে যান ধর্ম থেকে, এমনকি নিজেকে ‘এথিস্ট’ বা নাস্তিক হিসেবে ঘোষণা করেন। আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংয়ের দর্শনে প্রভাবিত হয়ে তিনি বিশ্বাসের জগত থেকে বিচ্যুত হন।
নিজের শেকড় এবং চারপাশের ধর্মীয় পরিবেশ তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি উপলব্ধি করেন, কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই বলার জন্য যে অগাধ জ্ঞান প্রয়োজন, তা তাঁর নেই। তাঁর মতে:
“তুমি যতই পণ্ডিত হও, তুমি ৯৯ পর্যন্ত যেতে পারবা, কিন্তু ১০০ হতে পারবা না। এই ‘এক’ হচ্ছেন আল্লাহ।”
যেদিন থেকে তিনি এই ধ্রুব সত্যকে স্বীকার করে নিয়েছেন, সেদিন থেকেই তাঁর জীবনে প্রশান্তি নেমে এসেছে বলে তিনি জানান।
গাজী রাকায়েত জানান, তিনি মূলত পবিত্র কোরআনের ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে এর গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন: কোরআনের প্রতিটি অক্ষরের যে রিপ্লেসিং নাম্বার বা প্রফেসি নাম্বার রয়েছে, তা কোনো মানুষের পক্ষে মেলানো সম্ভব নয়।
আধুনিক হাবল টেলিস্কোপ আবিষ্কারের পর মানুষ সূর্যের কক্ষপথ সম্পর্কে জেনেছে, অথচ ১৪০০ বছর আগে কোরআনে তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কোরআন কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, এই মহাগ্রন্থের গাণিতিক বিন্যাস মানবক্ষমতার অতীত।
গাজী রাকায়েতের ভাষ্যমতে, কোরআন মানুষের জন্য এসেছে, শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। জীবনের হারানো জিনিসের জন্য বিমর্ষ না হওয়া এবং পাওয়ার জন্য উদ্ধত না হওয়ার যে ঐশী শিক্ষা তিনি পেয়েছেন, তা-ই এখন তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহকে স্বীকার করার পর থেকেই সৃষ্টিকর্তা তাঁকে সব দিয়েছেন।
গাজী রাকায়েতের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রূপান্তরের গল্পটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং অনেককে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

