রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহাসিক মহা বারুণী স্নান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান শ্রী শ্রী মাতা সীতা মন্দির সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর ঢল নামে।
ভোর হওয়ার সাথে সাথেই কর্ণফুলী নদীর শীতল জলে পুণ্য অর্জনের আশায় ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। চট্টগ্রামের পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক চিৎমরম ইউনিয়নের(সীতাঘাট) এলাকা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে গঙ্গা বা পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপমোচন ও পুণ্য অর্জিত হয়।
স্নান শেষে ভক্তরা সীতামন্দির প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। দিনব্যাপী উৎসবের সূচিতে ছিল,
শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত হাজারো ভক্তের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।স্নান করতে আসা কয়েকজন পুণ্যার্থী জানান, এই প্রাচীন তীর্থস্থানে এসে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পাহাড় ও নদীর মিশেলে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করেন তারা।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি রূপ নিয়েছিল সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী সমলেন্দু বিকাশ দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আজকের এই বিশাল উপস্থিতি। কাপ্তাইয়ের এই ঐতিহাসিক সীতা মন্দির আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
“অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য বাবু দয়াল দাশসহ স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাহাড়ের এই জনপদে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

