ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ও বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
সংস্থাটির তদন্তে বলা হয়েছে, এই হামলার ঘটনায় চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেয়নি—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে এ ধরনের মর্মান্তিক হামলা বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাবের একটি নির্মম উদাহরণ। তার মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে এমন হামলা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে।
ঘটনাটির স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস, তাদের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দিয়েছে যে হামলাটি সম্ভবত মার্কিন বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সামরিক বাহিনী হামলাটি পর্যালোচনা করছে এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়নি বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, স্কুলে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ‘Made in USA’ লেখা দেখা গেছে।

