জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
রবিবার (১৫ মার্চ) সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় ড. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে আসেনি, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠিত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি সুযোগ চান।
গণভোটের রায় অনুযায়ী অবিলম্বে এই পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবিধানিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
বর্তমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামক কোনো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশটি পূর্ণাঙ্গ আইন বা অধ্যাদেশ নয়; এটি একটি ‘মাঝামাঝি’ ব্যবস্থা।
রাষ্ট্র পরিচা:লনার ভিত্তি রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে চলে। তবে গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই সমাধান খুঁজতে হবে।
বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা হতে পারে এবং প্রয়োজনে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা হতে পারে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না দিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হলে তিনি সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন।

