দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলোবামপুর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে দিনাজপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে তিনি কাহারোল উপজেলার বলোরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী স্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বিতরণ করবেন। পরে তিনি বলোবামপুর সাহাপাড়ায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
দিনাজপুর সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পারিবারিক কবর জিয়ারতও করবেন। তিনি দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর মডেল মসজিদের পাশে অবস্থিত কবরস্থানে তার নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার, খালা খুরশিদ জাহান হক চকলেটসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন।
এছাড়া বিকেলে দিনাজপুর শহরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউসে ইফতার শেষে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাহারোল উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সারা দেশের ৫৩ টি এলাকাতেও খাল পণঃখননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শেষ হলে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা সমস্যারও উল্লেখযোগ্য সমাধান হবে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের মুখে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি পরবর্তীতে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়াও রেগুলেটরের সঙ্গে একটি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

