সালমান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গত কয়েক দিন ধরেই হাওরাঞ্চলে বৃষ্টি পাত হওয়ায় কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আসলেও ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিতে এক ফসলী বোরো ধান ক্ষতি গ্রস্ত হবার আশংকা করছেন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
শুধু তাই নয় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় দূর্বল বাঁধ ভেঙে যাওয়া ও বজ্রপাতে প্রানহানীর আশংকায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছে হাজার হাজার কৃষক।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ৩টা থেকে শুরু হওয়া শিলা বৃষ্টি রবিবার(১৫ মার্চ)দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয় সাথে বজ্রপাত হয়।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান ও শনি হাওরের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,হাওরে বৃষ্টির প্রয়োজনীয় ছিলো তবে শিলা বৃষ্টি হওয়ায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কারন হিসাবে তারা বলছেন,এখন হাওরের জমি গুলোতে ধানের শীষ বের হয়নি তবে বের হবার প্রযার্য়ে রয়েছে ঠিক এ সময় শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি হলে ক্ষতি গ্রস্ত হবার আশংকা করেছেন। শিলা বৃষ্টির কারনে মাঠে থাকা সবজি চাষীদের ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ঝড়ো হাওয়ার সাথে শিলা বৃষ্টি ও বজ্র পাতের কারনে উৎবেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে হাওর জুড়ে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন,ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ সঠিক ভাবে না করায় মজবুত হয়নি। সে কারনে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে আমরা উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় আছি। কারন পাহাড়ি ঢল আসলেই বাঁধ ভেঙে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। সে কারনে দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ প্রতিটি বাঁধে কঠোর নজরদারি ও ঝুঁকি পূর্ণ বাধঁ গুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবী জানান।
মাটিয়ান হাওর পাড়ে কৃষক লতিফ মিয়া জানান,আমরা এই একটা ফসলের উপর নির্ভরশীল। এই ফসল আমাদের পরিবার ভরন পোষন সহ জীবন জীবিকা একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সরকার অকৃপণ হাতে টাকা দিলেও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের শেষ নাই। এখনও বাঁধের কাজ শেষ হয়নি।
শনি হাওর পাড়ে কৃষক ফরহাদ মিয়া জানান, ধানের অবস্থা ভালো আছে। বৃষ্টি হওয়ায় আরও ভাল হয়েছিল কিন্তু প্রচুর পরিমানে শিলা বৃষ্টি হওয়ার কারনে ভয়ে আছি। আর বৃষ্টির পরিমান বাড়ে আর পাহাড়ি ঢল আসে আবার শিলা বৃষ্টি হয় বেশি তাহলে ধান নষ্ট হবে আমরা ক্ষতি গ্রস্ত হবো। আর বজ্রপাতের কারনে ভয় কাজ করছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক তুজাম্মিল হক নাছরুম বলেন,ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ দায়িত্বশীলরা সময় মত শেষ করতে না পারায় হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধ গুলো দূর্ভল হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হয়েছে,আর যদি পাহাড়ি ঢল আসে তাহলে বাঁধ ভেঙে কষ্টে ফলানো কৃষকের এক মাত্র অবলম্বন তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন,উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তবে ক্ষতি হয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশা দেয়া হয়েছে। আশা করছি বোরো ধানের ক্ষতি হবে না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান,এক ফসলী বোরো ধান রক্ষা প্রতিটি বাঁধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শুরু থেকেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কোনো অনিয়ম যেন না হয়। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না ফসল রক্ষা বাঁধের।
হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, এখনই দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধগুলো মেরামত ও কঠোর তদারকি না করলে সামান্য পাহাড়ি ঢলেই সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ধান হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে হাওরের কৃষকদের মনে এখন বৃষ্টি নিয়ে যেমন আশা, তেমনি শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য ঢল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের বাঁধের মাটি কাজ প্রায় শেষ। এখন ঘাস লাগানো ও দুর্মুজের কাজ হচ্ছে। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে এসেও বাধের কাজ শেষ না হওয়ায় আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। এই মেয়াদ আজ রবিবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু বাঁধের কাজ বাকি রয়ে গেছে। চলতি বছর ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার অর্ধশত হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।

