আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভুল অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগে দুই নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মৃতরা হলেন— পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মান্নানের স্ত্রী সেফালী বেগম এবং বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম। হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেফালী বেগম ৭ নম্বর ও হেলেনা বেগম ১০ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার সকালে ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রাণী হাওলাদার ভুলবশত তাদের শরীরে ‘নরকিউ (Nor Q-10mg)’ অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দুই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতদের স্বজন ও ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগীরা জানান, সেফালী বেগম গালে টিউমারজাতীয় সিস্ট এবং হেলেনা বেগম থাইরয়েড সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার তাদের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। তবে অপারেশনের আগেই ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পরপরই রোগীদের স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত নার্স ওয়ার্ড ছেড়ে চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র নার্স মলিনা রাণী হাওলাদার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হয়েছে বুঝতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, রবিবার দুই রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশনের আগে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট নার্সরা ভুলক্রমে অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছেন। এটি তাদের দায়িত্বে গাফিলতির শামিল।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন এবং ইএনটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের স্বজনরা আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

