সত্যজিৎ দাস. (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাবই এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মাছুম আহমেদ (৩০)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার গোপালনগর এলাকার মো. আনোয়ার মিয়ার ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়,ভুক্তভোগী কুলাউড়া উপজেলার একটি সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। আসামি মাছুম আহমেদ ভুক্তভোগীর পাশের বাড়ির বাসিন্দা হওয়ায় প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী,গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে পাশের একটি ভবনের ছাদে ধান শুকানোর সময় মাছুম আহমেদ সেখানে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ভয়ে বিষয়টি সে সময় কাউকে জানায়নি।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ির হাঁস-মুরগি ঘরে নেওয়ার সময় আবারও অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের ভেতরে ঢুকে ভুক্তভোগীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মেঝেতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-৯।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ এর সিপিসি-২,মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ পাবই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ শনিবার (১৪ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

