ক্রাইম রিপোর্টার:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব আলীর বিরুদ্ধে আদালতের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার প্রতিবেদনে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ১৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন তিনি।এ ঘটনায় রায়পুরা উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পুলিশ সদস্য মো. বাচ্চু মিয়া নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাচ্চু মিয়া নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ভূমি অপরাধ মামলা (মোকদ্দমা নং–১৬/২০২৫) দায়ের করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাড়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব আলীকে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার প্রতিবেদন তার পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকায় বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার প্রস্তাব দেন। পরে নরসিংদী শহরের একটি বাসায় ৪ হাজার টাকা এবং রায়পুরা থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরও ১০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিবেদন না দিয়ে উল্টো আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর বিপক্ষে মতামত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাচ্চু মিয়া বলেন,“রিপোর্ট আমার পক্ষে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিলেন। পরে দেখি আদালতে আমার বিপক্ষেই রিপোর্ট দিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার ফোন কেটে দেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ হাসিব আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন,“আপনি রিপোর্ট করেন আর যাই করেন, উল্টান! আমাকে এই ব্যাপারে কোনো ফোন দেবেন না।”
এদিকে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মুনমুন পালের সঙ্গে দুই দিন চেষ্টা করেও সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণ করলে তা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তি হতে পারে।
এদিকে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী বাচ্চু মিয়া অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

