সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল পুনঃখননকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেছেন সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বৃহৎ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে দেশের ৫৩টি এলাকায় একযোগে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় একটি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ব্যাপকভাবে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কৃষি সেচব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে অসংখ্য খাল খনন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেসব খালের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃখননের উদ্যোগ না নেওয়ায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে কৃষি সেচ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং খালনির্ভর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে গাছপালার পরিমাণ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভূমি গাছপালায় আচ্ছাদিত, সেখানে উত্তরাঞ্চলে তা মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ এলাকায় বন বা বাগান থাকা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন করা গেলে কৃষকদের সেচ সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মাছ ও হাঁস চাষেরও ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে। খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সবুজায়ন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি সংরক্ষণ করে কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাল পুনঃখননের এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং পানি ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিবর্তন আসবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ (বিরল–বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

