মোঃ রওকত আলী, রংপুর সদর প্রতিনিধি:
হৃদরোগে মৃত্যুহার কমাতে এনসিডি কর্নারে সেবার মান উন্নত হচ্ছে। বহু মানুষ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে। বিভাগের ৮ জেলায় লক্ষাধিক উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগী বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করছেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের এক তথ্যে বলা হয়, শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলায় সদর ব্যতীত সকল উপজেলায় এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই জেলায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার শতকরা ৬৪ ভাগ, যা অনেক উন্নত দেশের সমান। তবে শতকরা ২২ ভাগ রোগী এনসিডি কর্নারে নিয়মিত ফলোআপে আসেন না এবং শতকরা ১৩ ভাগ রোগী এখনও অনিয়ন্ত্রিত। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্মসূচির উদ্যোগে ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রংপুর বিভাগে হৃদরোগে মৃত্যুহার কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
গতকাল বুধবার পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. গাউসুল আজিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত বিভাগীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. মো. ওয়াজেদ আলী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক ডা: মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, উপ-পরিচালক ডা. শামীম জুবায়ের, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মেশকাতুল আবেদ, সহকারী পরিচালক (নার্সিং) মোসা. রোকেয়া খাতুন, রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা, গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান, কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল রাজ্জাক, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা: মোঃ আনিছুর রহমান, পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বিভাগের সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এহসানুল আমিন ইমন, সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা: রাজত চৌধুরী, ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মো. রুহুল আমিন মিয়া, এনসিডি ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. মাহমুদুল হাসান।
বক্তারা বলেন, এ বছরের মধ্যে দেশে হৃদরোগ জনিত মৃত্যুহার এক চতুর্থাংশ কমিয়ে শতকরা ২৫ ভাগে, উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা কমিয়ে ১৮ ভাগে নিয়ে আসা এবং একইসাথে লবণ ব্যবহারের হার শতকরা ২৫ ভাগ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভাগের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। এ দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপের রোগী পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই কর্নারগুলো থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলকে আধুনিক ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ করা হবে এবং সকল রোগীর তথ্য সিম্পল অ্যাপস ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হবে এবং তাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের হার মনিটরিং এর কাজ জোরদার করা হবে।

