এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় কে আর আই কামিল মাদরাসায় সুমন মিয়া নামে আরও এক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়েই ২০২৫ সালের ফাজিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহন না করেই পরীক্ষায় পাশ করেছে। শিক্ষার্থী সুমন মিয়া দুই বছর যাবৎ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রকাশিত ফলাফল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, সারা দেশের ন্যায় ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ফাজিল পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। পরীক্ষায় প্রথম বর্ষে ৮১ জন, ২য় বর্ষে ৫২ জন ও ৩য় বর্ষে ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে পরীক্ষা না দিয়েই বাট্টাজোড় কে আর আই কামিল মাদরাসার ছাত্র মো: সুমন মিয়া বিএ গ্রুপ থেকে পাশ করেন। প্রকাশিত ফলাফলে তার সিজিপিএ ৩.১৭। তার রেজিষ্ট্রেশন ও রোল নম্বর ২১২০৩১২০৪।
সুমন মিয়ার বাড়ী বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় গ্রামে। তার বাবার নাম মুসলিম উদ্দিন, মায়ের নাম রহিতন বেগম। গ্রামের কতিপয় লোকজন জানান, সুমন মিয়া ২ বছর যাবৎ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
সুমন মিয়ার বাবা মুসলিম উদ্দিন জানান, সুমন মিয়া এক বছরের কাছাকাছি সময় যাবৎ সৌদি আরবে অবস্থান করছে এবং বর্তমানেও সৌদি আরবে রয়েছে। পুলিশে কর্মরত সুমন মিয়ার বোন ডেইজি জানান, কেউ কেই বলছেন আমি সুমের পরিবর্তে পরীক্ষা দিয়েছি। কথাটি ডাহা মিথ্যা। আমি সরকারি চাকৃুরি করি। সুমনের পরিবর্তে আমি কোন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করি নাই। তবে সুমন কবে সৌদি আরব গেছে তা আমার মনে নেই।
এব্যাপারে বাট্টাজোড় কেআরআ্ই সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ খসরু জানান, বিষয়টি কিভাবে ঘটেছে তা আমার জানা নেই। পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি সঠিক হলে যথাযথ ব্যবস্থা নৌযা হবে।
এব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসনিম জানান, বিষয়টি অবগত ছিলাম না। খোঁজ খবর নিয়ে তথ্য সঠিক হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামি আরবি বিশ^ বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি কারও কাম্য নয়। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে দোষি ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে মাদারাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া মো: নুরুল হক জানান, পজিল পরীক্ষা বোর্ড নিয়ন্ত্রন করেনা। ফজিল পরীক্ষার বিষয়টি ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যায় নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। তাই ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় বিষয়টির ভালো জবাব দিতে পারবে।
উল্লেখ্য একই পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে একই সনে একই গ্রুপের আরেক শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহও বাট্টাজোড় কেআ্রআই কামিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষা না দিয়েই কামিল পাশ করছেন। তার ফলাফল সিজিপিএ ৩.২৫।

