সালমান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত ডুবন্ত বাঁধের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রকল্পের বড় অংশ এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলার লক্ষাধিক কৃষক।
প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতনরা কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৭০২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বাস্তবে অনেক হাওরে অর্ধেকের বেশি কাজ এখনও বাকি। জেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার এখনো অরক্ষিত। এছাড়া পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে পিআইসি গঠন ও অনুমোদনে দেরি হয়েছে। কিছু স্থানে গণশুনানি ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন এবং অক্ষত পুরনো বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে।
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন ও পরিবেশ ও নদী রক্ষা আন্দোলনসহ সামাজিক সংগঠনগুলো জানিয়েছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাজ শেষ না হলে সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তারা অবিলম্বে কাজের তদারকি বৃদ্ধি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পানী উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, নির্বাচনের কারণে কাজ শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমানে হাওরের বোরো ফসল পুরোপুরি এই বাঁধগুলোর সুরক্ষার ওপর নির্ভর করছে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যায় বিস্তৃত ফসলহানি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

