ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রিয়াদসহ উপসাগরীয় দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যোগ না দেয়, তাহলে তাদের এর ‘পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়ানো এবং মার্কিন সেনাদের হত্যাকারী ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব তাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দেশ পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে অংশ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি করা উচিত কি না।
গ্রাহামের এই বক্তব্যের মাধ্যমে আগেই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্যের আংশিক সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি।
এরই মধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত ১ মার্চ সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত আরও এক মার্কিন সেনা মারা গেছেন। এতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। ওই দিন সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশে হামলা চালানো হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহাম। গত মাসে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-কে এই যুদ্ধে রাজি করাতে রিয়াদ সফরও করেছিলেন বলে জানান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহামের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তাও দিচ্ছে না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতিসংঘ প্রতিনিধি জামাল আল-মুশারখ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, তাদের দেশ উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে। তবু তারা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যুদ্ধ শুরুর আগেই সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ট ট্রাম্প-কে সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তাদের তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
ইতিমধ্যে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার এখন ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না, যার ফলাফল অনিশ্চিত। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালেও ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইরান নতুন করে নেতৃত্ব কাঠামো শক্ত করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি-কে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করেছে এবং যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল।

