মোঃ রওকত আলী, রংপুর সদর প্রতিনিধি :
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো খেজুর নিয়ে রংপুরে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। জেলার আটটি উপজেলায় এই খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হলেও সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার হতদরিদ্র ও এতিমদের। এ ঘটনায় নগরীর সচেতন মহল ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে বাংলাদেশে মোট ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার পাঠানো হয়েছে। এই খেজুর দেশের প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয় সরকার, যাতে রমজানে তা দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া যায়। এই বরাদ্দের অংশ হিসেবে রংপুর জেলা পায় প্রায় ২০১ কেজি খেজুর।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়া এই ২০১ কেজি খেজুর কেবল জেলার আটটি উপজেলার জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে এসব খেজুর বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এলাকার জন্য আলাদা করে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে খোদ বিভাগীয় শহরের গরিব ও অসহায় মানুষ এই উপহার থেকে বঞ্চিত থেকে গেল।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “খেজুরগুলো সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ আমাদের হাতে আসেনি। এমনকি জেলা প্রশাসন থেকেও আমাদের কোনো খেজুর দেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রাপ্ত খেজুরগুলো আট উপজেলার ইউএনওদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক নিজেও কিছু মাদরাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ করবেন। তবে সিটি এলাকার জন্য কেন বরাদ্দ নেই, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রমজানের এই মানবিক সহায়তায় এমন ভৌগোলিক বৈষম্য দেখে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শহর এলাকায় বস্তিবাসী ও বিপুল সংখ্যক হতদরিদ্র মানুষের বাস। অথচ তাদের বাদ দিয়ে কেবল উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি সহায়তা বা বিদেশি উপহার বিতরণে শহর ও গ্রামের সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নগরীর এতিমখানা ও দরিদ্র মানুষরা যাতে দ্রুত এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।

