নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে গ্রামের কৃষিচিত্র। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরির চাপের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সরিষা কাটতে কৃষকদের ভরসা হয়ে উঠেছে আধুনিক ফসল কাটার যন্ত্র রিপার। এ যন্ত্র ব্যবহারে যেমন কম সময়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে, তেমনি বিঘা প্রতি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকের সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও সময়ে। গতকাল বুধবার দুপুরে হোসেনগা ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলায় এর আগে এত বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়নি। এ মৌসুমে সরিষা কাটার কাজে অনেক কৃষকই ব্যবহার করছেন আধুনিক যন্ত্র রিপার।
উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, আগে এক বিঘা জমির সরিষা কাটতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতো। বর্তমানে রিপার যন্ত্র দিয়ে কাটলে বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় ১ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। অনেক এলাকায় বিঘা প্রতি প্রায় ৯ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। বাজারেও প্রতি মণ সরিষা ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।
কৃষি অফিস জানায়, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া ৩৭টি রিপার যন্ত্র বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এসব যন্ত্র দিয়েই চলতি মৌসুমে সরিষার ফসল কাটা হচ্ছে। এতে দ্রুত ফসল সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষকরা একই জমিতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করতে পারছেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, এবার সরিষার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজার দরও সন্তোষজনক। রিপার যন্ত্র ব্যবহারের ফলে শ্রমিক সংকট অনেকটাই কমছে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমছে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।

