হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পরিবহন সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে না পারায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বেশ কিছু পরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের সারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা গেছে।
কিছু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সেসব পাম্পের সামনেও ডিজেল, পেট্রল বা অকটেন পাওয়ার আশায় চালকেরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেক চালক দেড় থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।
একাধিক চালক জানান, অনেকের গাড়ির তেল একেবারে শেষ হয়ে গেছে, আবার কারও গাড়িতে অল্প তেল রয়েছে। এ অবস্থায় অন্য পাম্পে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পাম্প ছেড়ে চলে গেলে মাঝপথে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহুবল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামাল উদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকটে পুরো উপজেলায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

