মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বান্দরবানের একটি নাম—উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে সম্ভাব্য ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এ প্রেক্ষাপটে পার্বত্য অঞ্চল বান্দরবান থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূল—উভয় পর্যায়েই তিনি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ও জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি লীনা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থাকা এবং সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
দলের কঠিন সময়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং তৃণমূলকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কাঠামো লাভ করে।
স্থানীয় নেতাদের মতে, পার্বত্য জেলার তিনটি সাধারণ আসনের দুই প্রতিনিধি বর্তমানে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের। সাধারণ মানুষ দাবি বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন দক্ষ বাঙালি নেত্রী প্রয়োজন।
উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিকভাবে মামলার হুমকি পুলিশি হয়রানি হয়েছি প্রতিনিয়ত তবুও অবস্থান থেকে সরে যাইনি। রাজনীতিতে আমি কারও প্রতিপক্ষ নই এবং আমার সঙ্গে কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই।’
তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত নারী ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে চাই। সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, নারী উন্নয়ন ও এলাকার অগ্রগতির জন্য কাজ করব।”
প্রসঙ্গত, বান্দরবান থেকে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত করা হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন কোনো প্রতিনিধি দেখা যায়নি।

