দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলায় হঠাৎ করে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল না থাকায় অনেক চালক তেল না নিয়েই পাম্প থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আবার যেসব পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি হচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে দিনাজপুর শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা যায়। বেশ কয়েকটি পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ রশি দিয়ে চারপাশ ঘিরে রেখেছে, যাতে নতুন করে কেউ লাইনে দাঁড়াতে না পারেন।
তেলের সংকটের সুযোগে কিছু দোকানে বোতলে করে পেট্রোল বিক্রির ঘটনাও দেখা গেছে। এসব দোকানে হাফ লিটার পেট্রোল ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক মোটরসাইকেল চালক অতিরিক্ত দামে এই তেল কিনছেন।
শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক রাশেদ আলী বলেন, “সকালে কাজে যাওয়ার জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্পে তেল নেই। কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। অনেক সময় নষ্ট হলো, তবুও তেল নিতে পারলাম না।
আরেক চালক মাহবুব হোসেন বলেন, “যেখানে তেল আছে সেখানে অনেক লম্বা লাইন। প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। জরুরি কাজে বের হলেও এখন চিন্তা করতে হচ্ছে।
এদিকে সীমিত সরবরাহের কারণে কিছু পাম্পে মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ২ লিটার করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবার মধ্যে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিরল উপজেলার একটি তেল পাম্পের বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, “তেলের সরবরাহ কম থাকায় সবাইকে সমানভাবে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সীমা নির্ধারণ না করলে কয়েকজন বেশি তেল নিয়ে নেবে, আর অনেকেই একেবারেই পাবে না। তাই মোটরসাইকেল প্রতি দুই লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তবে পার্বতীপুর যমুনা জ্বালানি তেল ডিপোর ম্যানেজার মোজাম্মেল হোসেন জানান, ডিপোতে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, “ডিপোতে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। পাম্প মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্প মালিকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল তাদের স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছেন।

