নারীপ্রধান অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমায় নতুন রেকর্ড গড়ল রানী মুখার্জি অভিনীত ‘মারদানি ৩’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের টানটান উত্তেজনা উপহার দিয়ে সিনেমাটি ভারতে ৬০ কোটি রুপি এবং বিশ্বব্যাপী ৯০ কোটি রুপি আয় করেছে। এর মাধ্যমে ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার মর্যাদা পেল এটি।
সম্প্রতি নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন রানী মুখার্জি। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে যখন বক্স অফিসে তথাকথিত ‘আলফা মেল’ বা পুরুষতান্ত্রিক চরিত্রের আধিপত্য, তখন ‘মারদানি ৩’-এর এই জয় প্রমাণ করে যে নারীকেন্দ্রিক সিনেমারও শক্তিশালী দর্শক রয়েছে। এটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় বার্তা।”
২০১৪ সালে ‘মারদানি’র যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপট স্মরণ করে অভিনেত্রী জানান, শুরুতে এটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ২০১২ সালের ‘নির্ভয়া’ হত্যাকাণ্ডের পর সমাজে যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই পুলিশ অফিসার ‘শিবানি শিবাজি রায়’ চরিত্রের জন্ম। রানী বলেন, “মা হওয়ার পর পৃথিবী দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। নিজের সন্তান ও আপনজনদের নিয়ে উদ্বেগ সব সময় কাজ করে, আর ‘মারদানি’ আমাকে সেই ভয় জয় করার শক্তি দেয়।”
পর্দায় শক্তিশালী নারী চরিত্র ফুটিয়ে তোলা প্রসঙ্গে রানী মুখার্জি বলেন, “ভারতীয় নারীরা নানাভাবে শক্তিশালী—কেউ সংসার সামলাচ্ছেন, কেউ ইউনিফর্ম পরে দেশ সেবা করছেন। আমি চাই সেই অদম্য শক্তিই পর্দায় ফুটে উঠুক। শিবানি শিবাজি রায় কোনো পুরুষ চরিত্রের ‘নারী সংস্করণ’ নয়, বরং সে একজন সাহসী ও সৎ মানুষ যে তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান দক্ষ।”
সাক্ষাৎকারে নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্ভয়া শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে, কিন্তু সমাজ দ্রুত তা ভুলে যায়—যা অত্যন্ত ভয়ংকর।”
টানা ১২ বছর ধরে দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী বলেন, সাহস মানে শুধু গর্জন করা নয়, বরং নিজের অবস্থানে অটল থাকা। শিবানি শিবাজি রায়ের সেই দৃঢ়তাই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

