ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যকে “অত্যন্ত সতর্ক” থাকার আহ্বান জানিয়েছে লন্ডনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সাইয়্যেদ আলি মুসাভি।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাজ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাকে তেহরান বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ব্রিটিশ সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাজ্য এখনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি—এটি ইতিবাচক বিষয়। তার মতে, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ব্রিটেন কিছু শিক্ষা পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিও হামলার মুখে পড়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে তারা অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং বিদেশি হামলার জবাব দিচ্ছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে ইরান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

