শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছার চাঁদখালী এলাকার দেবদুয়ার শাহপাড়া থেকে বড়দল ব্রিজ পর্যন্ত সরকারি রাস্তা বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটার মালিকরা প্রতিদিন এই রাস্তাটি ব্যবহার করে ইট ও মাটি পরিবহন করছে।
ভারী ট্রাক্টর, ভেকু এবং অন্যান্য ভারী যান চলাচলের কারণে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার ওপর বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক অংশ সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এটি শুধু রাস্তার অবস্থা খারাপ করছে না, বরং রাস্তার পাশের মাটির ঘরবাড়িতেও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার বসতঘরে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে ঘরটি ধ্বসে পড়তে পারে। আমরা পরিবার নিয়ে ভয়ে বসবাস করছি।” অন্য বাসিন্দা রেজাউল সরদার বলেন, “প্রতিদিন রাত ও দিন ভারী যান চলাচল করছে, ছোট ছোট শিশুদের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করা এখন বিপজ্জনক হয়ে গেছে। প্রশাসনের নিরবতা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা।
এতে শুধু বসতঘরই নয়, এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। ট্রাক্টর ও ভেকু চলাচলের সময় ধুলো বালি পুরো এলাকা ঢেকে দেয়, যা স্থানীয়দের শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, “ধুলোয় অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা। প্রতিদিনের এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টের।”
পাইকগাছা উপজেলার বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে প্রায় ১৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইটভাটা চাঁদখালী এলাকায় অবস্থিত। তবে বেশিরভাগ ভাটার বৈধ পরিবেশ ছাড়পত্র বা অন্যান্য অনুমোদন নেই। এগুলো সাধারণত জনবসতি এলাকায় বা কৃষিজমিতে স্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু বসতঘর ও রাস্তা নয়, কৃষি উৎপাদনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কৃষি জমির উর্বর টপ সয়েল ইট তৈরিতে ব্যবহার হওয়ায় কৃষিজমির উৎপাদন ক্রমেই কমছে।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনের নজরদারি উপেক্ষা করে দিনরাত ভারী যান চলাচল চালাচ্ছে। তারা এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের অভিযোগকে অগ্রাহ্য করছে। রেজাউল সরদার বলেন, “আমরা অনেকবার প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয় না। শিশুরা ভয় পেয়ে রাস্তায় বের হতে পারে না। এই পরিস্থিতি খুবই ভীতিকর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার জানান, “ভারী যান চলাচল বা মাটি পরিবহনের বিষয়ে বিষয়টি মূলত ইটভাটা মালিকদের দায়িত্ব। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “ইটভাটার নামে সরকারি সম্পদ নষ্ট করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক। সরকারি মাটি কাটা ও পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব নিতে বাধ্য।

