সিলেটের মোগলাবাজারে শ্যালিকার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রুকন মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গ্রেপ্তারকৃত রুকন মিয়া মোগলাবাজার থানার বীরমঙ্গল এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে মোগলাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রবিবার (৮ মার্চ) সকালে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ:
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম প্রায়ই মোগলাবাজারের সিকন্দরপুর এলাকায় তাঁর বোনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই সুযোগে দুলাভাই রুকন মিয়া ভিকটিমের অজান্তে কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে এসব ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি শ্যালিকার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। রুকন মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভিকটিম বিষয়টি তাঁর বোনকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুকন গত বছরের ১৭ জুন ভিকটিমের বোনকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। তাঁদের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে।
ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ দাবি:
তালাকের পর রুকন মিয়া আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি ভিকটিমকে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন এবং ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভিকটিম চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে রুকন ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ওইসব অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।
আইনি পদক্ষেপ:
কোনো উপায় না পেয়ে ভিকটিম মোগলাবাজার থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই রুকন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

