সত্যজিৎ দাস:
প্রতি বছর ৮ মার্চ আসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে। শহর কিংবা গ্রামে নানা আয়োজন হয়,বক্তৃতা,আলোচনা,সম্মাননা। কিন্তু এই আলোচনার কেন্দ্রে খুব কমই থাকে সেই নারী যারা আমাদের ঘরের ভিতর নীরবে সংসারকে চালিয়ে নিয়ে যান-আমাদের মা, আমাদের গৃহিণীরা।
বাংলাদেশের গৃহিণী নারীরা দিনের শুরু হয় ভোরের আগে। ঘরে সবার জন্য খাবার তৈরি, সন্তানদের স্কুলের প্রস্তুতি,ঘর গোছানো,বৃদ্ধ দম্পতি,সন্তানদের দেখভাল-এই সব মিলিয়ে তাদের দিন চলে অবিরাম কাজের ধারায়। কেউ “ব্রেক”-এর কথা ভাবেনি,কেউ “ছুটির” কথা ভাবেনি। অথচ এই কাজগুলো পরিবারকে সচল রাখার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো,এই পরিশ্রমের কোনো আর্থিক মূল্য নেই। সমাজে অনেক সময় গৃহিণীর কাজকে ‘কাজ’ হিসাবেই ধরা হয় না। অথচ যে নারী সংসারকে সুন্দরভাবে চালিয়ে নিয়ে যান,তার শ্রম,ধৈর্য এবং ভালোবাসাই পরিবারের ভিত্তি।
গ্রাম হোক বা শহর,বহু মা নিজের স্বপ্ন গোপন করে রাখেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। তারা নিজের স্বাচ্ছন্দ্য,নিজের বিশ্রাম,কখনো কখনো নিজের শিক্ষা পর্যন্ত ত্যাগ করেন। সন্তানকে মানুষ করার জন্য তারা রাত-দিন এক করে দেন। কেউ বলে না,কিন্তু তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগই আসলে আমাদের সমাজকে টেকসই করে।
বাংলাদেশের অসংখ্য গৃহিণী নারী সংসারের বাইরে সামান্য ব্যবসা,হাঁস-মুরগি পালন,সেলাই বা হস্তশিল্প করে পরিবারে আর্থিক অবদান রাখেন। কিন্তু সমাজ এই অবদানকে খুব কমই স্বীকৃতি দেয়।
তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখন গৃহিণী নারীর শ্রমকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। সন্তানরাও বুঝতে শুরু করেছে,মা শুধু রান্নাঘরের মানুষ নন;মা একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং পরিবারের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়,নারীর ক্ষমতায়ন শুধুই কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঘরে যে নারী পরিবারকে ভালোবাসা,ধৈর্য এবং পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তোলেন,তিনিও সমানভাবে সম্মান ও স্বীকৃতির দাবিদার।
আজকের দিনে আমাদের উচিত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। শুধু ধন্যবাদ নয়,তাদের কাজকে মূল্যায়ন করা এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। কারণ ঘরের নীরব শক্তিই সমাজকে শক্তিশালী করে।

