সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
সরকারিভাবে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়ার পর থেকে মৌলভীবাজার জেলায় ধীরে ধীরে সূর্যমুখী চাষের পরিমাণ বাড়ছে। কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় ফসলটি এখন জেলার কৃষকদের কাছে সম্ভাবনাময় হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তায় বিভিন্ন উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ বিস্তৃত হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলাতেই প্রতি বছর সূর্যমুখী চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জুড়ী উপজেলায়। সঠিক পরিচর্যা করা হলে সূর্যমুখীর ফুল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে সূর্যমুখী ক্ষেতে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিস্তীর্ণ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর ও ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ক্ষেত থেকে ফুল কেটে বীজ সংগ্রহ শুরু হবে।
শ্রীমঙ্গলের লাহারপুর গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া জানান,এ বছর তিনি ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার সহায়তা পাওয়ায় খরচ কিছুটা কমেছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ক্ষেতের অবস্থা দেখে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই বীজ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
একই এলাকার কৃষক মো. খলিল বলেন,তিনি প্রতি বছরের মতো এবারও সূর্যমুখী চাষ করেছেন। সাত শতক জমিতে আবাদ করতে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনও ফুল পুরোপুরি আসেনি,তবে দুই থেকে তিন মণ বীজ পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এদিকে আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জমিতে উদ্ভাবিত বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,বারী-৩ জাতের গাছ তুলনামূলক খাটো হলেও ফুলের আকার বড় এবং কাণ্ড শক্ত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না। ফলে ক্ষতির ঝুঁকি কম। এ জাতের উৎপাদনও অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন,তেলবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্য পূরণে সূর্যমুখীর মতো ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৯৪ শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। লাহারপুর ও লইয়ারকুলসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে গড়ে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ পর্যন্ত সূর্যমুখীর বীজ পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন,কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে বিকল্প ও লাভজনক ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

