দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এই বিষয়ে মোস্তফা আল হুসাইন আকিলের একটি পোস্ট শেয়ার করে রাজনৈতিক দলগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
মোস্তফা আল হুসাইন আকিল তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, কালের কণ্ঠ বা এই গোষ্ঠী যদি বর্তমান সরকারকে অবৈধ মনে করে, তবে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, ইউনূস সরকার অবৈধ হলে এই সরকারের অধীনে হওয়া আগামী নির্বাচনও অবৈধ হবে। আর সেই নির্বাচন অবৈধ হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেও তারেক রহমান অবৈধ হিসেবেই গণ্য হবেন। আকিলের মতে, এই ধরণের প্রচারণার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনাকেই এখনো বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চলছে।
পোস্টে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “বসুন্ধরা গং-এর তেলানো দেখে খুশিতে বাকবাকুম হয়ো না।” আকিল মনে করেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা সুযোগ পেলেই আবারও বিএনপির ওপর আঘাত হানবে এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনবে। এই ধরণের মিডিয়া বা করপোরেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সখ্যতা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এই পোস্টটি শেয়ার করার পর তা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল সুকৌশলে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যারা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ছিল, তারা এখন ভোল পাল্টে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

