গাজীপুর মহানগরের পুবাইল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতটা ছিল অন্য সব রাতের মতোই শান্ত। রাত প্রায় ৯টার দিকে বাজারমুখী রাস্তায় লোকজনের আসা–যাওয়া ছিল স্বাভাবিক। সেই সময় মোটরসাইকেলে করে পুবাইল বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন দুই বন্ধু—সজীব মিয়া ও শেখ হাবিব বাপ্পী।
সজীব মিয়া (৪০) ছিলেন পুবাইলের মৃধাবাড়ি এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। আর শেখ হাবিব বাপ্পী (৩৫) ছিলেন সাতানিপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। দুজনেই পরিচিত মানুষ, এলাকার সবার কাছে হাসিখুশি স্বভাবের।
মোটরসাইকেলটি যখন পুবাইল রেলক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছায়, তখন ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামগামী একটি কনটেইনারবাহী ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী রেলক্রসিংয়ে অল্প সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। লোহার ভার নামিয়ে দেওয়া ছিল, যাতে কেউ ট্রেন আসার সময় পার হতে না পারে।
কিন্তু হয়তো তাড়াহুড়া ছিল, হয়তো মনে হয়েছিল সময় আছে। সজীব ও হাবিব অপেক্ষা না করে লোহার ভারটি একটু উঁচু করে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে এসে পড়ে ট্রেনটি। এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। ট্রেনের প্রবল ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সজীব মিয়া ও শেখ হাবিব বাপ্পী।
চারপাশের মানুষ ছুটে এলেও তখন আর কিছু করার ছিল না। মুহূর্তের তাড়াহুড়া দুইটি পরিবারের জীবনে নামিয়ে আনে গভীর শোকের ছায়া। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আবু তাহের মোহাম্মদ মুসা, পুবাইল রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার, বলেন যে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুবাইলের সেই রেলক্রসিং এখন আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ট্রেন চলছে, মানুষ চলাফেরা করছে। কিন্তু সেদিনের সেই কয়েকটি মুহূর্ত—একটু অপেক্ষা না করার সিদ্ধান্ত—দুটি প্রাণ কেড়ে নিয়ে গেছে, রেখে গেছে দুই পরিবারের অসীম শোক আর না ফেরার বেদনা।

