রাজধানীর বাতাসে তখন উৎসবের গন্ধ। ঈদ সামনে—আর সেই সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে শহরের বিভিন্ন শপিংমল। আলোর ঝলকানি আর রঙিন ব্যানারে সাজানো দোকানগুলো যেন আগেভাগেই বলে দিচ্ছে, আনন্দের দিন খুব কাছে।
মেহজাবিন সকালবেলা দুই সন্তান আর স্বামীকে নিয়ে বেরিয়েছেন ঘর সাজানোর কেনাকাটায়। পোশাক তো কিনতেই হবে, তবে এবার তার বিশেষ আগ্রহ গৃহসজ্জায়। শপিংমলে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল বিছানার চাদর, পর্দা, সোফা ও কুশন কভার, কার্পেট আর নানান শোপিসে। সবকিছুতেই ঈদের ছোঁয়া—কোথাও চাঁদ-তারার নকশা, কোথাও আরবি ক্যালিগ্রাফির ফ্রেম।
ছোট মেয়ে আনিকা দৌড়ে গিয়ে বেছে নিল সোনালি-সবুজ কুশন কভার। ছেলে আদনান মুগ্ধ হয়ে দেখছিল রঙিন লণ্ঠন আর ফেয়ারি লাইট। মেহজাবিনের চোখে পড়ল কৃত্রিম ফুলের একটি সেট। ভাবলেন, ডাইনিং টেবিলের মাঝখানে রাখলে দারুণ মানাবে। বসার ঘরের জন্য নিলেন নতুন পর্দা—হালকা ক্রিম রঙের ওপর চাঁদের নকশা।
স্বামী রাশেদ বললেন, “ঈদ মানেই তো অতিথি। বসার ঘরটা একটু আলাদা করে সাজানো দরকার।” তাই সোফার জন্য নতুন কভার আর একটি নরম কার্পেটও কেনা হলো। পরিবারের সবার অংশগ্রহণে কেনাকাটা যেন ছোট্ট এক উৎসবে পরিণত হলো।
দোকানিরাও ব্যস্ত। তারা বলছিলেন, ঈদের আগে ডেকোর আইটেমের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শুধু পোশাক নয়, মানুষ এখন ঘরের নান্দনিকতা নিয়েও সমান সচেতন।
দিনের শেষে কেনাকাটার ব্যাগে শুধু গৃহসজ্জার সামগ্রী নয়, জমা হলো আনন্দও। নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ঈদ এনে দিল ভালোবাসা, একসঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্ত আর অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতির উচ্ছ্বাস।
ঘরে ফেরার পথে মেহজাবিন মনে মনে ভাবলেন—নতুন পর্দা, কুশন, লাইটে সাজানো সেই ঘরেই তো ঈদের সকালে সবাই একসঙ্গে বসবেন। আর সেখানেই তৈরি হবে আরেকটি সুন্দর স্মৃতি।

