এস এম মাসুদ কাপাসিয়া (গাজীপুর):
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মালিকানা স্বত্ব ও আদালতের রায় তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে।
উপজেলার টোকের সালুয়াটেকী মৌজায় আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে একটি পক্ষ পেশিশক্তির জোরে জমিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র মতে, ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি টোকের সালুয়াটেকী মৌজার আর.এস. ৪০ নং খতিয়ানের ১৩৯ নং দাগের ১৮ শতাংশ জমি মৃত আঃ মান্নানের স্ত্রীর কাছ থেকে ক্রয় করেন মো. বাদল ও তার অংশীদার আকবর।
জমি ক্রয়ের পর থেকেই স্থানীয় মৃত আঃ সালাম (মতান্তরে সালমা) ও তার পক্ষ জমিটি দখলে নিতে বাদলকে বাধা দিয়ে আসছিল। জমির দখল বুঝে পেতে ও মালিকানা সাব্যস্ত করতে মো. বাদল আদালতের দ্বারস্থ হন। গাজীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে (স্মারক নং- ৫৪৯) চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এসি ল্যান্ড রিফাত নূর মৌসুমী স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, সালামের পক্ষ বাদলের অনেক পরে জমি রেজিস্ট্রি করলেও সুকৌশলে দলিলে ‘চৌহদ্দি জালিয়াতি’ করে বাদলের জমির সীমানা ব্যবহার করেছেন। তদন্তে বাদলের মালিকানা ও দখল সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
মামলাটির (পিটিশন নং- ২৬৭/২৩) দীর্ঘ শুনানি শেষে সম্প্রতি আদালত মো. বাদলকে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রায় প্রদান করেন। রায়ে অপর পক্ষকে অবৈধ দখলদার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে আদালতের এই চূড়ান্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিবাদী পক্ষ রিভিশন আবেদন করলেও তা এখনও অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে এবং রিভিশন আবেদনের ফয়সালা হওয়ার আগেই সোমবার (২ মার্চ) রাতে সালামের পক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত জমিতে টিনের বেড়া ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে।
জমির মালিক মো. বাদল আক্ষেপ করে বলেন, “আদালত আমাকে মালিক হিসেবে রায় দিয়েছেন, সরকারি তদন্তে আমার দখল ও দলিলাদি সঠিক পাওয়া গেছে। এরপরও বিবাদী পক্ষ আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে আমার জমি দখল করে নিয়েছে। আমি এখন সপরিবারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি তদন্ত রিপোর্ট এবং আদালতের রায় যেখানে বাদীর পক্ষে, সেখানে এভাবে জমি দখল আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চতর আদালতে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সালামের পক্ষের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি জমি পুনরুদ্ধারে এবং জানমালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

