হাবিব আহমেদ,
ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগরীতে এবার আগেই শুরু হয়েছে কেনাকাটা। মানুষ এবার আগেই বাজার মুখি হচ্ছেন। ইতিমেধ্য অনেকেই রমজান মাস পড়ার আগেই কেনাকাটা করে ফেলেছেন।
রমজানের শেষের দিকে অনেকটাই ঝুটঝামেলা ও ভীড় এড়াতে রমজানের প্রথম থেকেই লোকজন বাজারমুখি হয়েছেন। চলছে বিভিন্ন মার্কেট, ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটা। বিকেল পড়ার পর থেকে নগরীর মার্কেটগুলোতে লোকজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরও কিছু কিছু লোকজন কেনাকাটার জন্য বাজারগুলোতে ভীড় করছেন।
সন্ধ্যার পর দোকান মার্কেটগুলোও আলো ঝলমলে হয়ে উঠছে। রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মার্কেটে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর রাজশাহী নগরীর মার্কেটগুলোর মনোরম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী নগরীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাপড়ের দোকানগুলো বর্তমান বেশি লোকজন দেখা যাচ্ছে। দোকানগুলোতে এখন মেয়ের সংখ্যাই বেশি। নগরীর সাহেববাজার কাপড় পট্টিতে দুপুরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত ও ইফতারের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। কাপড়ের প্রতিটি দোকানে মেয়ে ক্রেতার ভীড়।
ক্রেতারা এ দোকান ও দোকান ঘুরে ঘুরে নিজেদের সাধ্যমত পছন্দের কাপড় কিনছেন। খুজছেন নতুন কোনো ডিজাইনের কাপড় বাজারে এসেছে কি না। অনেকেই ঈদের বাজারে নতুন কি এসেছে জানতে বাজারে ঘুরছেন। কাপড় না নিলেও বিভিন্ন দোকান ঘুরে কাপড় পছন্দ করে রাখছেন পরে সেইগুলো কেনার জন্য।
তবে এবার এখনো বাজারে ঈদের নতুন কোনো কাপড় আসেনি। বেশিরভাগ দোকানেই পুরোনা কাপড়ে ভরা। যদিও দোকানদাররা বলছেন, রমজানের যেহুত দশটা চলে গেলো সেহুত এখন নতুন নতুন মাল দোকানে তোলা হবে।
নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার ক্রেতা রাজশাহী মহিলা কলেজের ছাত্রী রেজওয়ানা মাহবুবা বলেন, আমার পরিবারে বাবা মা সহ চারজন সদস্য। ইতিমধ্যে আমার পরিবারের কেনাকাটা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ঈদের বাজারে ভীড় একটু বেশি হয়।
যার কারণে আগেই কেনাকাটা সেরে ফেলেছি। আর বাকি যতটুকু রয়েছে ঈদের দুচারদিনর আগে কিনে ফেলবো। রাফিয়া আক্তার নামে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, এবার বাজার ঘুরতে অনেকটাই স্বস্তি লাগছে। বিগত সময় একটা অস্বস্তি কাজ করতো। কিন্তু এবার তা মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, আপাতত বাজার ঘুরতে এসেছি। পরে করবো কেনাকাটা।
সাহেব বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী তম্ময় বলেন, এখন মেয়েদের বাজার চলছে। কারণ আগে থ্রি-পিচসহ বিভিন্ন কাপড় না কিনলে পরে সেগুলো আর ঈদে ব্যবহার করা যায় না। কাপড় কেনার পর সেগুলো আবার দরজিকে দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়। আর দরজিরা রমজানের পনের দিনের মধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেন। অনেক সময় দেখা যায় কাপড় কেনার পরও তৈরি করতে না পেরে অনেকেই ঈদে ব্যবহার করতে পারেন না। এরফলে এবার আগে থেকেই কাপড়ের দোকানে ভীড়। যেনো আগে কেনাকাটা সেরে দরজির স্বরণাপন্ন হওয়া যায়। তিনি বলেন, এবার কাপড়ের দামটা স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে নগরীর ব্যস্ততম কেনাকাটার বাজার আরডিএ। আরডিএ মার্কেটে এবার রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটা চলছে। প্রথম পর্যায় হলেও প্রতিটি দোকানেই ক্রেতা সমাগমও চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার পর আরডিএ মার্কেটে নারী পুরুষের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মার্কেটের কেনাকাটা চলছে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত। একই সাথে কেনাকাটা চলছে থিম ওমর প্লাজা, নিউমার্কেটেও।
যদিও থিম ওমর প্লাজায় আগের মত ক্রেতা সমাগম হয় না। তারপরও ঢাকা থেকে বিভিন্ন শো-রুম থিম ওমর প্লাজায় থাকায় উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ এই মার্কেটে বাজার করছেন। এছাড়াও চলছে নগরীর ফুটপাতেও কেনাকাটা। এখন পর্যন্ত মার্কেটের মত ফুটপাতের বাজার জমে উঠেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন কেনাকাটা শুরু হবে।

