ঢাকার আকাশে বৃষ্টি নামলেও শহরটি যেন রেহাই পায়নি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় যখন রিপোর্ট লেখা হচ্ছিল, ঢাকার বায়ুর মান ২৪০—বিশ্বের ১২২ শহরের মধ্যে শীর্ষে। এই মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। রাজধানীর নয়টি স্থানে বায়ুর মান অস্বাভাবিক খারাপ, আর একটি স্থানে তা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে—যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ স্তর। এই তথ্য দিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir), যারা শহরের বায়ুদূষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
ঢাকার বায়ুদূষণ গত ফেব্রুয়ারি মাসেও শীর্ষে ছিল, আর মার্চেও পরিস্থিতি বদলায়নি। গতকাল শহরে বৃষ্টি হয়েছে, ১১৪ দিন পর হলেও মাত্র ৩ মিলিমিটার। সাধারণত বৃষ্টি হলে বায়ুর মান উন্নত হয়, কিন্তু দেখা গেল এই বৃষ্টি কোনো স্বস্তি আনতে পারেনি। বিকেল ৫টার পরও ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল।
রাজধানীর সবচেয়ে দূষিত এলাকা গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার, যেখানে বায়ুর মান ৩৭৪। এরপর আছে গুলশান লেক পার্ক (২৮০), বারিধারা পার্ক (২৭৪), সাগুফতা (২৭০), দক্ষিণ পল্লবী (২৬২), উত্তর বাড্ডা ও আবদুল্লাহবাগ (২৫০), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৪০), বেচারাম দেউড়ি (২১০) এবং শান্তা ফোরাম (২০৭)।
২০১৯ সালে দেশের বায়ুদূষণের কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা গেছেন, আর এ কারণে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। রাজধানীতে এবং দেশের অন্যান্য শহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা সরকার সময় সময় উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু চোখে পড়ার মতো কোনো ফল হয়নি।
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, এই অবস্থায় ঢাকাবাসীকে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে এবং ব্যায়াম বা বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। বৃষ্টি কিংবা সরকারি উদ্যোগের মাঝে, ঢাকার বায়ু এখনো ভয়াবহভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

