সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর বিরলের মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামের মাঠে হালকা বাতাসে দুলতে থাকা সূর্যমুখীর হলুদ ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক উজ্জ্বল আয়োজন। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা আর অপরূপ সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে ফুটেছে আশার হাসি।
মাঠজুড়ে ফুটে থাকা সূর্যমুখীর প্রতিটি ফুলের পেছনে লুকিয়ে আছে কৃষকের পরিশ্রমের গল্প। সেই গল্প দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। অনেকেই ছবি ও সেলফি তুলতে ছুটে আসছেন, ফলে সোনালি এই ক্ষেত ধীরে ধীরে স্থানীয় এক ক্ষুদ্র পর্যটন আকর্ষণে রূপ নিচ্ছে।

গরুল গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তার সফল উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের কৃষকরাও ঝুঁকছেন এ চাষে। সবুজ মাঠের মাঝে তার ক্ষেত এখন স্বর্ণালি রেখার মতো চোখে পড়ে।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মিলিয়ে প্রায় চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। নয়নজুড়ানো এই দৃশ্য যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে, তেমনি প্রকৃতিপ্রেমীদেরও টানছে।
দর্শনার্থী সুরভি আক্তার বলেন, “রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সূর্যমুখীর বাগান চোখে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নেমে পড়ি। সোনালি ফুলের সমুদ্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি। প্রতিটি কোণই ছবি তোলার জন্য দারুণ।
আরেক দর্শনার্থী বিউটি আক্তার বলেন, গ্রামের এই মাঠের সৌন্দর্য মনকে ভীষণ শান্তি দেয়। সূর্যমুখী শুধু সুন্দরই নয়, মানুষের মধ্যে আশা ও আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লেগেছে।
কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছিলাম। এবার একটু বেশি জমিতে করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ আমাদের অনেক কাজে আসছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, “আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে সূর্যমুখী জেলার সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হতে পারে। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।
সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সোনালি সূর্যমুখী এখন শুধু একটি ফুল নয়—দিনাজপুরের কৃষকদের কাছে এটি নতুন আশা, সম্ভাবনা ও স্বাবলম্বিতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

