ইয়াবা কারবারের প্রতিবাদ করায় কয়লা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে সীমান্ত এলাকার কথিত গ্যাং প্রধান ও ইয়াবা ডিলার রুহুল আমিনকে। একই সঙ্গে রুবেল, রাজু ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২ মার্চ) রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত সিরাজুল ইসলাম উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম চারাগাঁওয়ের বাসিন্দা ও চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনের একজন কয়লা ব্যবসায়ী।
অভিযোগের বিবরণ, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন কয়েক বছর আগে গাজীপুরে চলে গেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বপরিবারে নিজ এলাকা তাহিরপুরে ফিরে আসে। এরপর সে ইয়াবা কারবার, সেবন এবং কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কয়লা ডিপোতে চুরি ও সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সিরাজুল ইসলামসহ এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা ও কয়লা চুরির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরে রোববার দুপুরে চারাগাঁও থেকে শুল্ক স্টেশনে যাওয়ার পথে সমিতির সামনে রুহুল ও তার সহযোগীরা সিরাজুলের পথরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, রুহুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং সহযোগীরা লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চারাগাঁও, কলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি ও বাঁশতলা সীমান্ত এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রুহুল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে ডিপো থেকে কয়লা চুরি ও সীমান্তে ইয়াবা কারবার চালাচ্ছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য, অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিন বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কয়লা চুরি ও ইয়াবা কারবার সংক্রান্ত সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
পুলিশের বক্তব্য, তাহিরপুর থানা-র ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কয়লা ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।

