তৃতীয় দিনের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত সামরিক অভিযান এখন আর সীমিত কোনো হামলা নয়, বরং পূর্ণমাত্রার এক সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
শনিবার শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, তেহরানে এক হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ওয়াশিংটনে অবশ্য এখনো পর্যন্ত চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকেও এসেছে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি।
তবে আজ সোমবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বার্তা সংস্থা এজেন্স ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) এ তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে পেন্টাগন জানায়, এই ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন-ও অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে একইসঙ্গে পেন্টাগন প্রধান হিসেবেও ডাকা হয়। চলতি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে এই পদের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ করার উদ্যোগ নেন, যদিও এখনো তা কংগ্রেসের অনুমোদন পায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পিট হেগসেথের বক্তব্যেই স্পষ্ট হতে পারে—এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য কী, এবং এটি কতদিন স্থায়ী হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আইনপ্রণেতাদের সামরিক অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। রোববার হোয়াইট হাউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে কংগ্রেসে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অভিযোগ করেছে, সামরিক অভিযান শুরুর আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের শলাপরামর্শ করা হয়নি।
তৃতীয় দিনের এই প্রেক্ষাপটে এখন সবার চোখ ওয়াশিংটনের দিকে। পেন্টাগনের ব্রিফিং কি নতুন কৌশল উন্মোচন করবে, নাকি শুধু চলমান অভিযানের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে—সেই উত্তর মিলবে আজকের সংবাদ সম্মেলনেই।

