জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা-র ৯১ নম্বর চরভাগা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভূয়া কাগজপত্র ও ভুয়া ভূমিহীন সনদ দেখিয়ে তাদের বসতভিটার ০.৪০ একর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পদ্মানদীর ভাঙনের পর প্রায় অর্ধশত বছর আগে মৃত আব্দুল হাফেজ খালাসি স্ত্রী আমরাহান বেগম ও সন্তানদের নিয়ে চরভাগা মৌজার ১৬৭ নম্বর দাগের খাসজমিতে বসতি স্থাপন করেন। একই সময়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন প্রতিবেশী মৃত হোচেন আলী সরদার। সময়ের সঙ্গে চরে জনবসতি ও জমির মূল্য বৃদ্ধি পেলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
মৃত আব্দুল হাফেজ খালাসির পরিবারের দাবি, হোচেন আলী সরদারের ছেলে জান শরিফ সরদার (৫০) ও মোহাম্মদ আলী সরদার বিভিন্ন সময় তাদের গাছপালা কেটে নেওয়া, ফসল নষ্ট করা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তারা ওই জমির ওপর ভূমিহীন বন্দোবস্ত নেন বলে জানা গেছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, জান শরিফ সরদার ভূয়া কাগজপত্র ও ভুয়া ভূমিহীন সনদ দেখিয়ে জমিটি নিজের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে তারা ভেদরগঞ্জের সখিপুর-ক ইউনিয়নের ভূমি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে খালাসি পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৬৭ নম্বর দাগের ০.৪০ একর জমিতে বন্দোবস্তগ্রহীতারা বাস্তবে ভোগদখলে নেই। বরং আবেদনকারী পরিবার প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে বসতঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপণ করে ভোগদখলে আছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও আবেদনকারী আমরাহান বেগমকে প্রকৃত ভূমিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে বন্দোবস্তগ্রহীতাদের নামে রেকর্ড ও ক্রয়সূত্রে অন্যত্র জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিন তদন্ত শেষে ভেদরগঞ্জের সখিপুর-ক ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী প্রতিবেদনে সুপারিশ করেন, তথ্য গোপন করে নেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন আবেদনকারীর নামে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান হবে।

