আসসালামু আলাইকুম ও আদাব, আমি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ নূর আলম। আমি মৌলভীবাজার জেলার ৬নং একাটুনা ইউনিয়ন এর বানগাঁও গ্রামের সন্তান। প্রবাসের মাটিতে থেকে আমি সবসময় আমার দেশের এবং আসপাশের মানুষের কথা চিন্তা করি আর সেই লক্ষে আমি একটি অঙ্গীকার করেছিলাম যে আমি আমাদের মূল সড়ক এবং আশপাশের গ্রামগুলোর ৯টি ভিন্ন ওয়ার্ডে, মৌলভীবাজার জেলার ৬ নং একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদে সম্পূর্ণ স্ট্রিট লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করব।
আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের অধিকাংশ গ্রামের প্রধান সড়কে আমি ইতিমধ্যে স্ট্রিট লাইট স্থাপন সম্পন্ন করেছি। এখনো কয়েকটি গ্রাম বাকি আছে, যেগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি—খুব শিগগিরই আপনার গ্রামেও স্ট্রিট লাইট পৌঁছে যাবে।
এই স্ট্রিট লাইটগুলো সৌরশক্তিচালিত; সূর্যের আলো থেকে চার্জ হয় এবং অন্ধকার হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে, আবার সকাল হলে নিজে থেকেই নিভে যায়।
আমি নিজস্ব অর্থায়নে এক কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে ২৫০টির বেশি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করেছি। কোনো গ্রুপ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন করেছি। এছাড়াও আমি অনেক সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি—যেমন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ব্রিজ নির্মাণ, বহু রাস্তা থেকে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থায়ন।
আমি আশা করি মৌলভীবাজার-এর মানুষ বিশেষ করে রাতের বেলায় আমাদের গ্রামগুলো ঘুরে দেখবেন এবং দেখবেন কীভাবে এই স্ট্রিট লাইটিং সবার জীবন বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত এসব রাস্তা ব্যবহার করেন।
আমি আশা করি, সবাই যদি ভালো কাজের খবর ছড়িয়ে দেন এবং নিজেদের কমিউনিটিতে ভালো কাজ করেন, তাহলে মানুষ অবশ্যই তা মূল্যায়ন করবে এবং আপনাকে সমর্থন করবে। আমি আশাবাদী, আমার মতো আরও অনেক সমাজসেবী এগিয়ে আসবেন এবং নিজ নিজ গ্রাম উন্নয়নে অবদান রাখবেন।
শুধু পোস্টার ছাপিয়ে নিজেকে ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান বা মেম্বার প্রার্থী বলা খুব সহজ। কিন্তু এখন মানুষ অনেক সচেতন ও বুদ্ধিমান। তারা আপনার পারিবারিক ইতিহাস, আপনার অতীত কর্মকাণ্ড, সমাজে আপনার প্রকৃত অবদান—সবকিছু জানে। আপনি নিজের অর্থ থেকে কতটুকু ব্যয় করেছেন, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, এবং এতদিন নিজের গ্রাম ও মানুষের জন্য কী করেছেন—এসবই মানুষ বিবেচনা করে।
তাই ভোট চাইতে যাওয়ার আগে এবং “আমাকে চেয়ারম্যান বা মেম্বার হিসেবে ভোট দিন” বলে পোস্টার ছাপানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনার চরিত্র কেমন? আপনার ইউনিয়নের মানুষ আপনার কাছ থেকে কী পাবে? আপনি কি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী? আপনার উদ্দেশ্য কি সত্যিই সেবা করা, নাকি নির্বাচিত হয়ে সরকারি তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতি করা এবং নিজের লোকজনকে দিয়ে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়া?
সবার প্রতি অনুরোধ—আমার এই বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আপনার এলাকায় কাকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা মেম্বার হিসেবে সমর্থন করবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব হলো স্থানীয় মানুষ ও তাদের কমিউনিটির পাশে থাকা। জনগণ যেন সুশাসন ও ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করা। তারা সবসময় জবাবদিহিমূলক, সহজলভ্য, সৎ, সম্মানজনক, নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ, বিশ্বস্ত, বিনয়ী ও রসিকতাবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত। গ্রামে কোনো সমস্যা বা বিরোধ দেখা দিলে মানুষ যেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা সদস্যদের কাছ থেকে বিনামূল্যে ও ন্যায়সংগত প্রতিনিধিত্ব পায়।
শুধু মিষ্টি কথায় নয়—কাজই কথা বলে দিবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন এভাবে মানুষের কল্যানে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।

