মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ অচেনা অস্থিরতায় কেঁপে উঠছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি এখন চরম নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। সেই উত্তেজনার মধ্যে ভ্রমণ করা যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে মুশফিকুর রহিম এক অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখে পড়লেন। তিনি কয়েক দিন আগে মক্কায় ওমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর শনিবার তার ফ্লাইট ছিল এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (EK 0806) মাধ্যমে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ফ্লাইটটি মাঝপথে জেদ্দায় ফিরে আসে।
জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে থাকা মুশফিক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানান, “আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আলহামদুলিল্লাহ, হজের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আজ দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে আমার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটটি আবার জেদ্দায় ফিরে আসে।”
দেশে ফিরতে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, “আমি এখন জেদ্দা বিমানবন্দরে আছি। আমার সঙ্গে হাজারো যাত্রী আটকে আছেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন কবে এবং কীভাবে আমরা বাংলাদেশসহ অন্যান্য গন্তব্যে যেতে পারব, বিশেষ করে ঢাকাগামী বাংলাদেশি যাত্রীরা।”
এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি এবং কুয়েত সিটি সহ বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের ফ্লাইটের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা শুধু ফ্লাইটকে প্রভাবিত করছে না, দেশের সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর সেই অস্থির আকাশের তলে, জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে থাকা মুশফিক এবং অন্যান্য হাজারো যাত্রী যেন এক অনিশ্চিত পরবর্তী দিনের অপেক্ষায়।

